বিপুল চাপ সামলে পঞ্চমবার বিধায়ক নির্বাচিত হলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
দি নিউজ লায়ন; দলের স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতি। সঙ্গে প্রবল বিজেপির হওয়া। হাবরা বিধানসভা কেন্দ্রে এবার বিপুল চাপ ছিল। অবশেষে সেই চাপ সামলে পঞ্চমবারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
যাত্রা শুরু হয়েছিল 2001 সালে। বাম জমানায় গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তখন সিপিএমকে হারিয়ে নির্বাচনে জেতা ছিল প্রবল কঠিন লড়াই। পরেরবার 2006 সালেও গাইঘাটা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করলেন জ্যোতিপ্রিয়। সেবার উত্তর 24 পরগনা জেলার তেত্রিশটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র তিনটি বিধানসভায় তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। তার মধ্যে একটি ছিল গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র। কিন্তু 2011 বিধানসভা নির্বাচনে গাইঘাটা কেন্দ্রটি তপশিলি সংরক্ষিত হয়ে যায়। জ্যোতিপ্রিয় পাশের হাবরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়াই করেন। সিপিএম প্রার্থী প্রণব ভট্টাচার্যকে সেবার তিনি 25 হাজার ভোটে হারিয়েছিলেন। তারপর তৃণমূল সরকারের খাদ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। 2016 বিধানসভা নির্বাচনে নতুন করে বাম হওয়া উঠলেও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক প্রায় 46 হাজার ভোটে জয়লাভ করেছিলেন।
চলতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে হাবরা কেন্দ্রে তৃণমূল 'এবারের লক্ষ্য এক লক্ষ' স্লোগান তুলেছিল। কিন্তু পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক লড়াই যে বেশ কঠিন তা বুঝেছিলেন। তাই ভোটের তিন মাস আগে থেকে কার্যত হাবরা বিধানসভার অলিগলি তিনি চষে ফেলেছেন। অবশেষে এলো সাফল্য। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রাহুল সিনহাকে 3841 ভোটে হারিয়ে পঞ্চম বারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হলেন।
কেন কমে গেল জ্যোতিপ্রিয়র জয়ের ব্যবধান?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধায়ক হিসেবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সাফল্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু তাঁর চারপাশে থাকা স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাঁদের দুর্নীতি ও উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল। সাধারণ ভোটারদের অনেকেরই ধারণা ছিল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জিতলে স্থানীয় নেতাদের ঔদ্ধত্য আরও বাড়বে। তাই স্থানীয় ক্ষোভ গিয়ে পড়ে বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের উপর। স্বাভাবিকভাবে হাবরা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা তৃণমূল বিরোধী ভোট বেশ খানিকটা দখল করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। অল্প ভোটে হলেও হাবরা কেন্দ্রে জয়লাভ করলেন জ্যোতিপ্রিয়ই।

Post a Comment